প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 26, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Sep 20, 2026 ইং
গোয়াইনঘাটে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করায় যুবককে পিটিয়ে জখম, ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, গোয়াইনঘাট (সিলেট):
সিলেটের গোয়াইনঘাটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করায় মো. ইয়াকুব আলী নামে এক যুবককে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৪/৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে আদালতে মামলা করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হালিম (৬৯) বাদী হয়ে সিলেটের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩য় ও আমলী আদালত নং-১০ (গোয়াইনঘাট)-এ সি.আর মামলা দায়ের করেন। মামলাটি আমলে নিয়ে আদালতের বিচারক সুদীপ্ত তালুকদার গোয়াইনঘাট থানার ওসিকে সরেজমিনে তদন্ত করে আগামী ১ নভেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার বিবরণ ও বাদীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাউঁরভাগ হাওর (মুখতলা) এলাকায় একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে নদীর তীর ও স্থানীয়দের জমি থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল। ইয়াকুব আলী এর প্রতিবাদ করায় ওই চক্রের সঙ্গে তার বিরোধ সৃষ্টি হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, গত ২৩ আগস্ট রাত আনুমানিক ৮টার দিকে বাউঁরভাগ হাওর নদীর পূর্ব পাড়ে ইয়াকুবের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাতের চেষ্টা করা হলে তিনি হাত দিয়ে প্রতিরোধ করেন। এতে তার বাম হাতের কবজি ও আঙুলের হাড় ভেঙে যায় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। একপর্যায়ে হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে তিনি নদীতে ঝাঁপ দেন।
পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয়রা লোকমান হোসেন সিকদার চেয়ারম্যানের বাড়ির উঠান থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করেন। প্রথমে গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
মামলায় অভিযুক্তরা হলেন—মনোয়ার (৫২), সুমন (২৩), স্বপন (২৬), নাজিম (২৫), সুমন (২৭) ও হালিম (৩৫)। তারা সবাই বাউঁরভাগ হাওর (মুখতলা) এলাকার বাসিন্দা বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীর জবানবন্দি গ্রহণের পর আদালত আশপাশের সাক্ষীদের বক্তব্য রেকর্ডসহ নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার স্মারক নম্বর ৬১৬।
এদিকে ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে দাবি করেছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেছে।
গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: ওমর ফারুক বলেন, “আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক উত্তর সিলেট ২০২৬